ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপত্তা গাইড!!!

Posted: জুলাই 17, 2010 in প্রতিবেদন
Tags: , , ,

লিখেছেনঃ BABU

এখন অনেকেই ক্রেডিট কার্ড এবং ডেবিট কার্ড ব্যবহার করছেন, আর এদের অনেকেই বিপাকেও পরেছেন। এর কারন হচ্ছে প্রযুক্তি যেমন উন্নত হচ্ছেন তেমনি দুষ্টলোকেরাও নিজেদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে সেটাকে অন্যদের বিপাকে ফেলার কাজে ব্যবহার করছে। তাই ইংরেজিতে যেমন একটা কথা আছে prevention is better than cure, ঠিক একই কথা প্রযোজ্য অনলাইন ব্যাংকিং-এর জন্যও। তাই যারা অনলাইন ব্যাংকিং করতে চান, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইন শপ থেকে কেনাকাটা করতে চান, তাদের সাবধানতার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়াটা জরুরি।

প্রথমেই যেটা জরুরি, সেটা হচ্ছে যেখানে সেখানে অনলাইন ব্যাংকিং করবেন না, বিশেষ করে সাইবার ক্যাফেতে। কারন বেশিরভাগ মানুষই এরকম অরক্ষিত কম্পিউটার থেকে অনলাইন কেনাকাটা করতে গিয়ে তাদের কার্ডের বা ব্যাংকের সব তথ্য অজান্তেই দিয়ে দেন হ্যাকারদেরকে। এমনকি কোন বন্ধুর কম্পিউটার থেকেও এই ধরনের ব্যাংকিং বা কেনাকাটা করাটা ঠিক হবে না।

আপনার নিজস্ব কম্পিউটারেও যদি অনলাইন ব্যাংকিং বা শপিং করতে হয় তাহলে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার কম্পিউটারে যথেষ্ট পরিমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া আছে। প্রথমেই যেটা দরকার সেটা হচ্ছে ভালো একটা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার। খেয়াল রাখবেন যে এর সাথে যেন ফায়ারওয়াল এবং অনলাইন প্রটেকশনের ব্যবস্থাও থাকে। এভিজি, কাসপারস্কি ইত্যাদি বিভিন্ন অ্যান্টিভাইরাসের ফ্রি সংস্করন ইন্সটল করতে পারেন। এই ফ্রি সংস্করনগুলো অন্যান্য সংস্করনের মতোই ভাইরাস ধরতে পারে সহজেই, শুধু সেই ভাইরাসগুলোকে এই ফ্রি সংস্করনগুলো ক্লিন করতে পারে না। কিন্তু আপনি ভাইরাস আক্রান্ত ফাইলটাকে কোয়ারাইন্টাইন বা মুছে ফেলতে পারেন। তাই যদি ভালো অ্যান্টিভাইরাস কেনার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে একটা ফ্রি সংস্করন ইন্সটল করে নিন।

যে কোন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন না। বাজারে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার নাম দিয়ে কিন্তু কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো আসলে হ্যাকারদের বানানো, এবং এটা ইন্সটল করামাত্র আপনার সব তথ্য হ্যাকারদের নখদর্পনে চলে আসবে। তাই বিভিন্ন অনলাইন ম্যাগাজিন বা ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিন যে ভালো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কোনটি। জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে তুলনা করে কোনটা বেশি ভালো সেটা জানতে পারবেন এভি-কম্প্যারেটিভ ওয়েবসাইট থেকে।

কাসপারস্কি অ্যান্টিভাইরাসের একটা চমৎকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ব্রাউজারের সাথে ব্যবহারের জন্য অনস্ক্রিন কিবোর্ডের ব্যবস্থা আছে। অনেক হ্যাকাররাই যেটা করে সেটা হচ্ছে keylogger নামে এক ধরনের প্রোগ্রাম আপনার কম্পিউটারে তারা ইন্সটল করে রাখে। এই প্রোগ্রামটি আপনি কিবোর্ড থেকে যা যা টাইপ করছেন সেটা পরে একটা সুবিধাজনক সময়ে হ্যাকারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ফলে অনলাইন ব্যাংকিং বা কেনাকাটার সময় আপনি যখন ক্রেডিট কার্ড নাম্বার, বা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাম্বার, এক্সপায়ারি ডেট ইত্যাদি তথ্য টাইপ করছেন, সেগুলো সবই টুকে নিচ্ছে সেই কি-লগার প্রোগ্রাম। তাই এই অনস্ক্রিন কিবোর্ড আপনাকে সেই কিলগারের হাত থেকে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে পারে।

ওয়েবসাইটের সার্টিফিকেট পরীক্ষা করুন। নামকরা সাইটগুলো তাদের সাইটের জন্য একধরনের ওয়েব সার্টিফিকেট ব্যবহার করে। এই সার্টিফিকেট থাকার অর্থ হচ্ছে ঐ সাইটটি পরিক্ষিত। সাধারনত ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারের পাশে এ সাইটের যে ফেভআইকন (সাধারনত সাইটের লোগোর ছবি) সেখানে ক্লিক করলে দেখতে পারবেন যে ঐ ওয়েবসাইটটি সার্টিফাইড কি না। কোন কোন ওযেবসাইট আছে (বিশেষ করে ব্যাংকিং এবং অনলাইন কেনাকাটার নামকরা সাইটগুলো) আপনার ব্যাপারে স্পর্শকাতর তথ্য নেয়ার সময় (যেমন: জন্মতারিখ, বাসার ঠিকানা, অথবা কার্ডের নাম্বার) এনক্রিপ্টেড কানেকশন ব্যবহার করেন। এরকম সাইটে ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে বা স্ট্যাটাসবারে একটা তালার চিহ্ন দেখতে পারবেন।

ঠিক ওয়েবসাইটে ঢুকছেন কিনা আরেকবার ভালো করে দেখুন। অনেকসময়ই হ্যাকাররা মূল ওয়েবসাইটের মতো করে নকল একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে রাখে। ধরুন আপনি hsbc-র ওয়েবসাইটে ঢুকবেন, কিন্তু অ্যাড্রেস বারে টাইপ করতে গিয়ে লিখে ফেললেন hscb, কিছুক্ষণ পরে দেখলেন যে এইচএসবিসি ব্যাংকের ওয়েবসাইট, তাদের লোগো সেখানে। তাই আপনি স্বাভাবিকভাবেই আপনার ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড লিখে ঢুকে পরলেন। আসলে যেটা হলো সেটা হচ্ছে হ্যাকাররা আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড এই পদ্ধতিতে পেয়ে গেলো। তাই ব্যাংকিং বা অনলাইন শপিং সাইটে ঢোকার পর আরেকবার মিলিয়ে দেখুন যে ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস ঠিকমতো আছে কিনা।

কোন ই-মেইলে পুরস্কার বা আপনি অনেক টাকা পাচ্ছেন এ ধরনের কথাবার্তা থাকলে ভালো করে সেটার ব্যাপারে খোঁজ নিন। অনেকসময় ব্যাংকের লোগো দিয়ে বা অন্য কোন নামকরা প্রতিষ্ঠানের লোগো দিয়ে ইমেইল পাঠায় হ্যাকাররা। সেখানে বলা থাকে যে এইমাসে আপনাকে র‌্যান্ডমলি সিলেক্ট করা হয়েছে বিশাল একটা পুরস্কারের জন্য, তাই সেই পুরস্কার পেতে একটা লিঙ্কে ক্লিক করতে বলবে আপনাকে। সেখানে ক্লিক করলেই একটা ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে আপনার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইবে। আর সেই তথ্যগুলো ব্যবহার করে হ্যাকাররা হাতিয়ে নেবে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ।

কোন কোন ওযেসবাইটে যাচ্ছেন সেটার প্রতি সাবধান হোন। অনেকেই বিভিন্ন ওযেবসাইটে যান যেগুলোতে প্রচুর ভাইরাস থাকে। যেমন সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সাইট, বা গান শোনার বা নাটক দেখার সাইট ইত্যাদি। Facebook-এ প্রাইভেসি সেটিং-এ কড়াকড়ি নিয়ে আসেন, যাতে করে কে আপনার সম্পর্কে কতোটুকু তথ্য দেখতে পারবে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অনেক সময় হ্যাকাররা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য থেকে অনেক কিছু অনুমান করে ফেলতে পারে।

পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। অনেক সময় এসব পাইরেটেড সফটওয়্যারের সাথে keygen বা অন্যকিছু সফটওয়্যার আসে যেটা কখনো কখনো আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস বা কি-লগার প্রোগ্রাম ঢুকিয়ে দিতে পারে। তাই পাইরেটেড সফটওয়্যারের পরিবর্তে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বিনিপয়সায় ব্যবহার করা যায় এবং এসব ভাইরাসের ঝামেলা থেকেও মুক্ত থাকা যায়। এই ওয়েবসাইটে থেকে নিয়মিত বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফটওয়্যার সম্পর্কে জানতে পারবেন।

Source

মন্তব্য
  1. ইমরান বলেছেন:

    বুঝলাম ভাই। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s